ঢাকাFriday , 24 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বয়স কেবল একটি সংখ্যা: ৬০ বছর বয়সে যুক্তরাজ্য থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশির

banglaprime24
July 24, 2026 2:06 am
Link Copied!

শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই—এই চিরায়ত সত্যকে আরও একবার বাস্তব জীবনে প্রমাণ করে দেখালেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি সৈয়দ জহুরুল হক। দীর্ঘ কর্মজীবন, প্রবাসজীবনের হাজারো ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিড়েও দমে যাননি তিনি। জীবনের ষাট বছর বয়সে এসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে তিনি স্থাপন করেছেন অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও অধ্যবসায়ের এক বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বয়সের সীমানা যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না, জহুরুল হকের এই সাফল্য তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

১৯৬৫ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামের এক খ্যাতনামা ও বিদগ্ধ পরিবারে জন্ম নেন সৈয়দ জহুরুল হক। তিনি আধ্যাত্মিক সাধক ও মরমি কবি পীর সৈয়দ শাহনূর (রহ.)-এর পঞ্চম বংশধর। তাঁর বাবা মরহুম সৈয়দ নূরুল হক (সুফি মিয়া মাস্টার) ছিলেন এলাকার একজন স্বনামধন্য ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। পারিবারিক এই শিক্ষানুরাগী আবহেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি উত্তর সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সৈয়দপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে সৈয়দপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস করেন। এরপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (বিএসসি) সম্পন্ন করেন। সিলেট ল কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও প্রবাসগমনের কারণে তা আর শেষ করা সম্ভব হয়নি।

দেশে থাকাকালীন শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন জহুরুল হক। তিনি প্রথমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন। পরবর্তীতে সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা ও শাহারপাড়া শাহকামাল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলায় নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। লন্ডনের মতো ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ শহরে তাঁর প্রবাসজীবন শুরু হয় নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে। জীবিকার তাগিদে শুরুর দিকে রেস্তোরাঁয় কাজ করলেও নতুন কিছু শেখার প্রবল স্পৃহা তিনি কখনো হারিয়ে ফেলেননি। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসে সংবাদচর্চায় অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টের অধীন ‘ডিপ্লোমা ইন পাবলিক সার্ভিস ইন্টারপ্রিটিং’ ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালত, ট্রাইব্যুনাল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সার্টিফাইড ট্রান্সলেটর এবং ইন্টারপ্রেটর (দোভাষী) হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবন ও প্রবাসজীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও জহুরুল হক তাঁর মনের কোণে লালিত সুপ্ত স্বপ্নটিকে কখনো হারিয়ে যেতে দেননি। জীবনের নানা বাস্তবতায় যৌবনে যে ডিগ্রি অর্জন করা হয়ে ওঠেনি, ষাট বছর বয়সে এসে তা পূরণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দীর্ঘ চার বছর কঠোর অধ্যয়ন ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যের কেন্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি থেকে ‘বিজনেস অ্যান্ড ট্যুরিজম’ বিষয়ের ওপর কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক। তাঁর সন্তানেরাও তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং বড় দুই সন্তান যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্ব স্ব পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

নিজের এই বিশাল অর্জন সম্পর্কে সৈয়দ জহুরুল হক বলেন, শিক্ষা হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং শেখার কোনো শেষ নেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ না হয়ে নিজের ভেতরের জেদ ও ইচ্ছাশক্তিকে টিকিয়ে রাখলে যেকোনো বয়সে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তাঁর এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প কেবল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যেসব মানুষ প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেছেন, তাঁদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।