ডিজিটাল ও সাইবার জগতে বৈষম্যহীন একটি ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের নীতিনির্ধারকরা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈষম্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। আইসিটি মন্ত্রী মনে করেন, প্রযুক্তির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য সাইবার স্পেসে সমতাভিত্তিক নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রসার এবং সাইবার নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নানা ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি বহুল আলোচিত চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি মডেল ‘কিমি’ নতুন গ্রাহকদের সাময়িকভাবে সেবা প্রদান বন্ধ রেখেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীর চাপ সামলানো এবং সেবার মান উন্নত করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা আগামী দিনের প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশ সরকারও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে এআই প্রযুক্তিতে পারদর্শী করে তুলতে নতুন কিছু কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পেশাদার স্তর পর্যন্ত প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে, যাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে না পড়ে।
অন্যদিকে ভূ-রাজনীতি ও প্রযুক্তির মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চীনের নেতৃত্বে প্রায় ২৯টি দেশের সমন্বয়ে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোট গঠিত হয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে গিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়ন, ডেটা শেয়ারিং এবং বৈশ্বিক এআই নীতিমালায় ভারসাম্য আনা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মেরুকরণ ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

