ঢাকাTuesday , 4 August 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্কটল্যান্ডের ক্লাইড তীরে শতবর্ষের সামুদ্রিক ঐতিহ্য: ইতিহাস জ্যান্ত করে রেখেছে ‘দ্য টল শিপ গ্লেনলি’

banglaprime24
August 4, 2026 10:50 am
Link Copied!

স্কটল্যান্ডের অন্যতম প্রধান নগরী গ্লাসগোর বুক চিরে বয়ে যাওয়া ক্লাইড নদীর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে উনবিংশ শতাব্দীর এক জীবন্ত ইতিহাস। শহরটির বিখ্যাত রিভারসাইড মিউজিয়াম বা নদী তীরবর্তী সংগ্রহশালার পাশেই স্থায়ীভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে ‘দ্য টল শিপ গ্লেনলি’ নামক একটি ঐতিহাসিক পালতোলা জাহাজ। এটি কেবল নদীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে না, বরং ভিক্টোরীয় যুগের সমুদ্রযাত্রা ও স্কটল্যান্ডের গৌরবোজ্জ্বল জাহাজ নির্মাণ শিল্পের এক অমূল্য নিদর্শন হিসেবে বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় টিকে রয়েছে। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে আগত অজস্র পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এটি গ্লাসগোর সামুদ্রিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

‘দ্য টল শিপ গ্লেনলি’র নির্মাণ ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও রোমাঞ্চকর। ১৮৯৬ সালে পোর্ট গ্লাসগোর বিখ্যাত ‘অ্যান্ডারসন রজার অ্যান্ড কোম্পানি’র শিপইয়ার্ডে এই ইস্পাত-নির্মিত তিন মাস্তুলবিশিষ্ট পালতোলা জাহাজটি তৈরি করা হয়। সে সময়ে বিশ্ব বাণিজ্যে পালতোলা জাহাজের প্রভাব ছিল অপরিসীম। গ্লেনলি মূলত দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনের জন্য নির্মিত হয়েছিল। কয়লা, শস্য এবং বিভিন্ন ভারী মালামাল নিয়ে এটি প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াত। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনে জাহাজটি চারবার বিশ্বজুড়ে পূর্ণাঙ্গ জলযাত্রা বা সার্কমন্যাভিগেশন সম্পন্ন করেছিল, যা তৎকালীন প্রযুক্তির সাপেক্ষে এক অসামান্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সময়ের পরিক্রমায় এবং বাণিজ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জাহাজটির হাতবদল ও নাম পরিবর্তন ঘটে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে এটি ইতালীয় এবং পরবর্তীতে স্প্যানিশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ জাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে এটি ‘গালাতিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রশিক্ষণ জাহাজ হিসেবে সেবা দেওয়ার পর, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে জাহাজটি কাটিং ইয়ার্ডে ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় পড়েছিল। তবে ১৯৯৩ সালে ‘ক্লাইড মেরিটাইম ট্রাস্ট’ নামক একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা স্পেনের সেভিল থেকে জাহাজটিকে উদ্ধার করে ক্রয় করে। এরপর সেটিকে স্কটল্যান্ডের নিজস্ব জন্মভূমি ক্লাইড নদীতে ফিরিয়ে আনা হয়। বছরের পর বছর কঠোর শ্রমে ও নিখুঁত কারিগরি দক্ষতায় জাহাজটিকে তার মূল ভিক্টোরীয় রূপে ফিরিয়ে আনা হয়, যা ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত।

বর্তমানে খ্যাতিমান স্থপতি জাহা হাদিদের নকশা করা আধুনিক ‘রিভারসাইড মিউজিয়াম’-এর ঠিক বাইরে ক্লাইড নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এই ঐতিহাসিক জাহাজটি। এটি এখন স্কটল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মুক্তাঙ্গন শিক্ষামূলক মিউজিয়াম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা ১৯ শতকের নাবিকদের কঠিন জীবনযাত্রা, তাদের থাকার ঘর, ক্যাপ্টেন কেবিন ও মাস্তুল পরিচালনার সরঞ্জাম সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের জন্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আধুনিক ইন্টারেক্টিভ প্রদর্শনী।

গ্লাসগো একসময় বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রগুলোর একটি ছিল, যার মূল ভিত্তি ছিল এই ক্লাইড নদী। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে— “গ্লাসগো বানিয়েছে ক্লাইডকে, আর ক্লাইড বানিয়েছে গ্লাসগোকে।” এই ঐতিহাসিক প্রবাদের যথার্থ প্রমাণ হিসেবে ‘দ্য টল শিপ গ্লেনলি’ আজ শতবর্ষ অতিক্রম করেও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। নদীর ঐতিহ্য, নগরীর সামুদ্রিক রূপান্তর এবং মানব সভ্যতার অদম্য জলযাত্রার স্মারক হিসেবে এটি প্রতিনিয়ত ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন করে তুলে ধরছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।