বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের ‘ডিকেড অফ অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১-২০৩০’ কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশ সরকার এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনার হার একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং অদক্ষ চালকদের হাতে স্টিয়ারিং থাকা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে।
প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ব্ল্যাক স্পট বা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একটি পরিবহন সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা অপরিহার্য।
পরিশেষে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা একটি চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। সমন্বিত উদ্যোগ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি দুর্ঘটনা-মুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং সেল সক্রিয় থাকে, যাতে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

