দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থ আস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাংকটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদকে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রমে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ সুশাসন ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ নীতি নির্ধারকদের মধ্যে গভর্নর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংকটির পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমানসহ পর্ষদের আটজন পরিচালক অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। পুরোনো শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে চৌদ্দজন সদস্যকে এবং পূর্বের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পুরোনো শেয়ারধারীদের উপস্থিতি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালনায় শতভাগ নিয়মকানুন ও পরিপালন নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পর্ষদ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং ব্যবস্থাপনা ত্রুটি দূর করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে আটকে থাকা ঋণ বা খেলাপি ঋণ উদ্ধারে বিশেষ কৌশল বাস্তবায়ন এবং নতুন বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। ব্যাংকটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নীতিনির্ধারণী কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকরা সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকছেন, যা যেকোনো অনিয়ম রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের অন্যান্য বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকটিও এস আলম গ্রুপ এবং কেডিএস গ্রুপের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ওই সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদে এস আলমের নিকটাত্মীয়দের আধিপত্য ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই বিতর্কিত পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদ গঠন করে। দীর্ঘ সময় সেই পর্ষদের মাধ্যমেই ব্যাংকটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বর্তমান ধাপে এসে কেডিএস গ্রুপসহ মূল শেয়ারধারী ও উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় হস্তান্তর করা হলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে ব্যাংকটি এখন নতুন গতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

