দেশের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএলএনজি) টার্মিনালে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এই টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ মেরামতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যার ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীরা সম্মিলিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি সচল করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা এই মেরামত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তবে জটিল এই কারিগরি ত্রুটির কারণে কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মূলত বয়লারে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের ফলে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মহেশখালীর এই ভাসমান টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দেশে আমদানিকৃত এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং তৈরি হয়েছে দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে আগে সরবরাহ করা হতো প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু এলএনজি আমদানিতে এই বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় দৈনিক সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২৫ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। এর ফলে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে, যা আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প খাতের উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে দেশের ভোলা জেলা থেকে পাইপলাইন বা বিকল্প উপায়ে গ্যাস এনে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি চীনা বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি, নতুন কোনো সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করতে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরাও রাজধানীতে এসে সংশ্লিষ্ট মহлের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সরকার আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

