কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মাদকবিরোধী এক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছেন এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাহিদুল ইসলাম (৪৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মিস্টার’ নামেও পরিচিত। তিনি উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গনাইরকুটি গ্রামের মানিক উদ্দিনের সন্তান।
ঘটনার দিন রাতে গনাইরকুটি এলাকায় জাহিদুল ইসলাম গোপনে ইয়াবা কেনাবেচা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এই সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে স্থানীয় সচেতন জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং মাদকসহ আটক করে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত জাহিদুলকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।
পরবর্তীতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথের নেতৃত্বে সেখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতের বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম নিজ মুখে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকার সচেতন বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এই জনপদে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের এমন সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থানীয়দের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে উপজেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ এই তৎপরতা ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

