গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় একটি দ্রুতগতির নসিমনের (স্থানীয়ভাবে রূপান্তরিত যান) চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল জব্বার (৫২) নামের এক দরিদ্র ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে বের হওয়া জব্বার একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা নিয়ন্ত্রণহীন ওই নসিমনটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জব্বারকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর পরই ঘাতক নসিমনের চালক গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। একইসঙ্গে ঘাতক নসিমনটিকে জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইনে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক চালককে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন থ্রি-হুইলার এবং নসিমন-করিমনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ জনপদে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। নিহতের পরিবার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং দোষী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

