জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে পুরো সফরজুড়ে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজেও হতাশাজনক হার দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একমাত্র সংক্ষিপ্ত সংস্করণের টি-টুয়েন্টি সিরিজে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর জয়ে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন তারা। গোটা সফরে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের পেস বোলিং এবং উইকেটের বাড়তি বাউন্সের সামনে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েন টাইগার ব্যাটাররা। সংস্করণ পরিবর্তন হলেও ব্যাটিংয়ের দুর্বল চিত্রটি অপরিবর্তিত ছিল।
সিরিজ শেষে দেশে ফিরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি উইকেটের বৈচিত্র্য এবং মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জকে মুখ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, আফ্রিকান উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্সের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচে ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও সিরিজের শেষ ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টিতে এসে তারা উইকেটের আচরণ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।
আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি এবং প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবকেও এই ব্যর্থতার অন্যতম নিয়ামক বলে মনে করেন আশরাফুল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোর আধিক্যের কারণে এখন আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর আগে আলাদা করে দুই বা তিন দিনের কোনো অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে না। হুট করে নতুন কোনো কন্ডিশনে গিয়ে কন্ডিশনিং ম্যাচ ছাড়া সরাসরি মূল ম্যাচে নেমে পড়া যেকোনো দলের জন্যই বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। সফর শুরু করার আগে অন্তত একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুবিধা থাকলে দল হয়তো শুরু থেকেই ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারত।
গত সাত মাস ধরে ঘরের মাঠের পরিচিত কন্ডিশনে খেলার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া ও উইকেটে গিয়ে মানিয়ে নেওয়া ব্যাটারদের জন্য কঠিন ছিল। তবে এই সফর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ভবিষ্যতে কাজে দেবে বলে মনে করেন আশরাফুল। আগামী আগস্টে দীর্ঘ ২৩ বছর পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে বাংলাদেশ। ক্যাঙ্গারুর দেশে পেসারদের গতি ও বাউন্স সামলানো আরও বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের এই কঠিন অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যাটারদের মানসিকভাবে শক্ত রাখতে এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

