জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং মাদক, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জয়পুরহাটে একটি গুরুত্বপূর্ণ টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ মিলনায়তনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)-এর উদ্যোগে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। ‘নিরাপদ জয়পুরহাট গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক এই আয়োজনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলার বর্তমান অপরাধ পরিস্থিতি এবং এর প্রতিকারে সাধারণ মানুষের করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ ও র্যাবের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জোরদার করা। বক্তারা বলেন, শুধু আইনি প্রক্রিয়া দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের সজাগ দৃষ্টি এবং সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস এবং কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির অপপ্রভাব থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সাঈদ আনোয়ার রাহী তাঁর বক্তব্যে অপরাধ দমনে জনবলের পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা সমাজেরই অংশ, তাই তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের সাইবার বুলিং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদ তাঁর বক্তব্যে মাদকের বিস্তার রোধে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। জয়পুরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি কাজী ইমরুল কায়েস ও র্যাবের স্কোয়াড কমান্ডার ফাহাদুজ্জামান আকন্দও সভায় বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে সমাজ থেকে অনেক অপরাধ আপনাআপনি কমে যাবে।
সভার মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, বখাটেদের উপদ্রব এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি অভিযোগ ও মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই টাউন হল সভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জয়পুরহাট গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

