ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ‘ককরোচ পার্টি’ নামের একটি উদীয়মান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভের কারণে দিল্লির অন্তত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের গেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ও শর্ত হলো, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক পুলিশি দমনপীড়নের নিরপেক্ষ বিচার এবং আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আলোচনায় বসা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দমনপীড়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে এই দেশজুড়ে চলা সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সম্প্রতি পুলিশি তাণ্ডবের ঘটনায় একটি জরুরি শুনানির আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। আদালত মন্তব্য করেছেন যে, ‘ভিডিও দেখার সময় নেই’—যার ফলে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নাগরিক সমাজের একটি অংশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ছাত্র সমাজের ওপর পুলিশের এই বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা কনসার্টের মঞ্চে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা নিজেদের কি ভগবান ভাবতে শুরু করেছেন? সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিল্পীর এই মন্তব্য আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে এবং সাধারণ মানুষের নৈতিক সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের সামনে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ দমন—উভয় চ্যালেঞ্জই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও তা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরাও তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় রাজধানী দিল্লিতে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরির শঙ্কা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনজীবন সচল রাখতে মোদি প্রশাসন এখন নতুন কোনো কৌশল নেওয়ার কথা ভাবছে।

