ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর প্রতিবাদে সোচ্চার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভারতীয় সংসদের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বুধবার আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী জানান, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নৈরাজ্য ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রথম এবং অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি হলো—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে তিনি উল্লেখ করেন, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শান্তিপূর্ণ মিছিলে নগ্ন হামলা চালিয়েছে এবং যারা এই ধরনের বর্বরোচিত আদেশের নেপথ্যে ছিল, সেই সমস্ত দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তিনি বলেন, পুরো শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সাময়িকভাবে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও এই রাজনৈতিক ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, আটকের সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তার কানে কানে বর্তমান মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় এই নেতা জানান, বিগত বারো বছরে প্রায় ১৫২ বার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সরকারের উদাসীনতার কারণে একবারও কোনো প্রকৃত দোষীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। দেশের লাখ লাখ যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

