রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রশাসনিক ভবন থেকে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের বদলি করে সেখানে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রাবি অফিসার্স ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে মোট ১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়। এই বদলি প্রক্রিয়ার আওতায় সংস্থাপন শাখা ও গোপনীয় শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর থেকে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরিয়ে বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগ ও হলে পদায়ন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, এই বদলি কার্যক্রমে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তুলনামূলক জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করার মতো অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে গিয়ে রাবি অফিসার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল সবার। গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম অংশীজন হিসেবে তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বেছে বেছে প্রশাসনিক ভবন থেকে সরিয়ে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, চাকরির নিয়মানুযায়ী বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও তা জ্যেষ্ঠতা এবং কর্মকর্তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে করা উচিত নয়। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্ব পালন করে আসা একজন কর্মকর্তাকে হঠাৎ করে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই বিভাগে বদলি করা অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনটির সভাপতি মাসুদ রানা তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। তারা ইতোমধ্যে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, যদি বৈষম্যমূলক বদলির এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের রক্ষা করে আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের হেনস্তা করা হয়, তবে সাধারণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আনীত অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মতান্ত্রিক কাজের অংশ হিসেবেই এই বদলি করা হয়েছে। এটি কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা নিয়োগ বা বদলি নয়, বরং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

