অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির (ABC) একটি লাইভ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এবং কট্টর রাজনীতিক বার্নাবি জয়েস একটি রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সময় তাঁর পোষা কুকুরের অনবরত ঘেউঘেউ ও চিৎকারে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সাক্ষাৎকার চলাকালীন হঠাৎ করেই কুকুরটি গোলযোগ শুরু করলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং উপস্থাপিকা সারা ফার্গুসনের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।
সোমবার রাতে প্রচারিত ওই লাইভ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সারা ফার্গুসন বার্নাবি জয়েসকে তাঁর রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে কুকুরের আওয়াজ আসার কারণে জয়েস হঠাৎ সাক্ষাৎকার থামিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘বসে পড়ো।’ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি উপস্থাপিকাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুঃখিত, এটা কুকুরটার জন্য।’ তবে কিছুক্ষণ পর প্রাণীটি আবারও উচ্চস্বরে ঘেউঘেউ শুরু করলে জয়েস পুনরায় ক্ষমা চেয়ে বলেন যে কুকুরটির আকস্মিক আচরণ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এ সময় উপস্থাপিকা সারা ফার্গুসন পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কুকুরটিকে বাদ দিয়ে মূল রাজনৈতিক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘কুকুর নিয়ে ভাববেন না, শুধু প্রশ্নের উত্তর দিন।’ কিন্তু এই মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানান জয়েস। তিনি উপস্থাপিকাকে ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘অভদ্র হবেন না, সারা। তা না হলে এই সাক্ষাৎকার এখানেই থেমে যাবে।’ মূলত অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি এবং সমসাময়িক কট্টর ডানপন্থী তৎপরতা নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনার মাঝেই এই ব্যক্তিগত বিশৃঙ্খলা অনুষ্ঠানটিকে ভিন্ন মোড় দেয়।
সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়বস্তু ছিল পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান এবং দলটির নীতিগত বিতর্ক। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা এই দলটি বর্তমানে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করেছে। সম্প্রতি পলিন হ্যানসন ব্রিটিশ উগ্রপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের সঙ্গে একটি পডকাস্টে অংশ নেন, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দেয়। রবিনসন অতীতে সহিংস ফুটবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে ইসলামবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
ওই পডকাস্ট আলোচনায় হ্যানসন দাবি করেছিলেন যে, ১৯৭০-এর দশকে ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ বা শ্বেতাঙ্গ অস্ট্রেলিয়া নীতি বাতিল করার কারণে আজকের অস্ট্রেলিয়া বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মূলত অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসন সীমিত করার পক্ষেই ওই নীতিটি কাজ করত। হ্যানসনের এই মন্তব্য প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও পরবর্তীতে তিনি সাফাই গেয়ে দাবি করেন যে তিনি শ্বেতাঙ্গ নীতি ফিরিয়ে আনার কোনো ডাক দেননি, তবুও বিতর্ক থামেনি। ঠিক এই স্পর্শকাতর রাজনৈতিক সমীকরণ ও সমালোচনার জবাব দিতে গিয়েই এবিসির লাইভ স্টুডিওতে কুকুরের গোলযোগের মুখে পড়েন বার্নাবি জয়েস।
উল্লেখ্য, বার্নাবি জয়েস এর আগেও পোষা প্রাণী সংক্রান্ত নানা ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপের পোষা কুকুরকে নিয়ম ভেঙে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করানোর ঘটনায় তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন এবং সেই কুকুরগুলোকে মেরে ফেলার মতো বিতর্কিত হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছিলেন। বর্তমান এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে চরম ব্যস্ততা ও উত্তেজনার মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ছোটখাটো ঘটনা কীভাবে জনসমক্ষে বড় রকমের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

