ঐতিহাসিক অপারেশন মেরসাদ-এর বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের ভূখণ্ডের দিকে কুনজর দেওয়ার দুঃসাহস যে পক্ষই দেখাক না কেন, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এমনকি দেশের সীমানা পার হয়ে শত্রুর মাটিতেই তাদের নিশ্চিহ্ন ও সমাহিত করার পূর্ণ সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)-এর প্রকাশিত এক বিবৃতির সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ১৯৮৮ সালের আলোচিত অপারেশন মেরসাদকে ইরানের সামরিক শক্তি, অখণ্ডতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর অদম্য দৃঢ়তার সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছরব্যাপী চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধের একেবারে অন্তিম লগ্নে ইরানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই সফল পাল্টা অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে সেই জটিল সামরিক অভিযানে প্রয়াত মেজর জেনারেল আলি সাইয়্যাদ শিরাজির অসামান্য কৌশলগত নেতৃত্ব এবং বিচক্ষণতা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। বিবৃতিতে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং বলা হয় যে, সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত ঐক্যই সেদিন অপারেশন মেরসাদের ঐতিহাসিক সাফল্য নিশ্চিত করেছিল।
ইরানি সেনাবাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেই অভিযানটি বিশ্ববাসীর কাছে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছিল যে, তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুরো জাতি সবসময় একাট্টা ও ঐক্যবদ্ধ থাকে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঐতিহাসিক স্মারক ও শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, অতীতে ১২ দিনের যুদ্ধ, রমজান যুদ্ধ কিংবা কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর সংঘাতের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অখণ্ড জাতীয় চেতনা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছিল।
বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি এবং নিবিড় সতর্কাবস্থার মধ্যে রয়েছে। যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরহস্তে প্রতিহত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইরানি সেনাবাহিনী একচুলও পিছপা হবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় ন্যূনতম আঘাত আসলে তার জবাব দেওয়া হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর ও বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে।

