ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

banglaprime24
July 23, 2026 3:01 pm
Link Copied!

ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় বন্ধন আরও শক্তপোক্ত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা এই উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এ চুক্তিটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই সমঝোতার অধীনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা প্রদান করবে, যা রিয়াদের শক্তি খাতে বড় ধরনের রূপান্তর আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৯৫৪ সালের মার্কিন পরমাণু শক্তি আইনের ১২৩ ধারার বাধ্যবাধকতা মেনেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ হিসেবে সুপরিচিত। একই সঙ্গে এর আওতায় একটি পৃথক নিরাপত্তা ও তদারকি সম্পর্কিত চুক্তিও যুক্ত রয়েছে, যা প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে সাহায্য করবে। চুক্তি প্রসঙ্গে আমেরিকার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এই সমঝোতা দুই দেশের বাণিজ্যিক আদান-প্রদানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি সুদৃঢ় নিরাপত্তার বলয় নিশ্চিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রেখে আমেরিকান বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে এই সমঝোতার কয়েকটি বিশেষ দিক নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনীতি ও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এ চুক্তির ফলে সৌদি আরব নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্বায়ত্তশাসন পেতে পারে, যা এতদিন মার্কিন জ্বালানি সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার ধারণার বাইরে ছিল। যদিও মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নমনীয়তা দেওয়া হলে তা মার্কিন কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের তাগিদ ও তৎসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুন কৌশলগত প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-এর নীতি অনুযায়ী বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ নয়। তবে ইউরেনিয়াম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে তা দিয়ে মারণাস্ত্র তৈরি সম্ভব হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একমাত্র ইসরায়েলকেই অপ্রকাশিত পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী বলে গণ্য করা হয়, যদিও তেল আবিব তা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। এই পরিস্থিতিতে সৌদির পারমাণবিক প্রযুক্তির বিকাশ অঞ্চলে এক নতুন শক্তিসমীকরণ তৈরি করছে।

আমেরিকার জ্বালানি দপ্তর এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটিকে বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব বলে অভিহিত করেছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে প্রেরণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, এই পারমাণবিক সমঝোতা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শুধু যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে তা নয়, বরং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার তদারকি যেমন জোরদার হবে, তেমনি রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বহুমুখী প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।