ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবার শেষ ইচ্ছাপূরণ ও পারিবারিক দূরত্ব: জীবনের কঠিন সত্যি প্রকাশ্যে আনলেন রাম কাপুর

banglaprime24
July 29, 2026 12:18 pm
Link Copied!

ভারতীয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেতা রাম কাপুর সম্প্রতি এক রিয়েলিটি শোতে নিজের জীবনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন এক অধ্যায় প্রকাশ্যে এনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। একটি বিনোদনমূলক রিয়েলিটি শোয়ের বিশেষ পর্বে অংশ নিয়ে তিনি জানান, মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত বাবার শেষ ইচ্ছানুসারে তাঁর জীবনের ইতি টানার পরিকল্পনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন। দীর্ঘদিনের এই গোপন সত্য প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি তিনি এ-ও খোলসা করেন যে, এই সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবে গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর মা ও বোন তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।

অভিনেতার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবার ৬৩ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার (প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার) ধরা পড়েছিল। সে সময় জটিল অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকরা কেমোথেরাপির সিদ্ধান্ত নেন। টানা ১৮ দফা কেমোথেরাপির পর তিনি সাময়িকভাবে ক্যানসারমুক্ত হন এবং পরবর্তী প্রায় এক দশক স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করেন। তবে ৭৩ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির প্রাক্কালে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে তাঁর শরীরে ক্যানসার নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। শারীরিক যন্ত্রণার একপর্যায়ে তিনি আর কোনো জটিল চিকিৎসা বা কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানান।

রাম কাপুর জানান, পেশাগত কারণে তরুণ বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কিছুটা দূরত্ব ছিল। পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত না হয়ে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তাঁর আয়ু শেষের পথে, তখন তিনি ছেলেকে ফোন করে নিজের চরম সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি সরাসরি ছেলেকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি তাঁকে এই যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে বিদায় নিতে সাহায্য করবেন কি না। প্রথমদিকে এই প্রস্তাবে গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত হলেও, বাবার আকুল আবেদন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি একা না থাকার আকুতি রাম কাপুরকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

বাবার শর্ত মেনে রাম কাপুর পুরো বিষয়টি পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে গোপন রাখেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা ভেবেছিলেন স্বাভাবিক ক্যানসার চিকিৎসাই চলছে, কিন্তু বাস্তবে সব ধরনের কৃত্রিম চিকিৎসা সহায়তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আইসিইউতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাবার হাত ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন রাম। একইসঙ্গে, মৃত্যুর পর কোনো দীর্ঘস্থায়ী আনুষ্ঠানিক শোক না পালন করে সেদিনই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার যে নির্দেশ বাবা দিয়েছিলেন, তা-ও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিনেতার পারিবারিক সম্পর্কে এক বড় ধরনের ভাঙন ধরে। তাঁর মা ও বোন বিষয়টিকে মেনে নিতে না পেরে তাঁর সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পাঁচ বছর ধরে এই পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা বজায় থাকলেও, রাম কাপুর জানান যে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর মনে কোনো অনুশোচনা নেই। তাঁর মতে, একজন সন্তানের পক্ষে মা-বাবার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানানো ছিল সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। বাবার এই বিদায়কে তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখেন, যা তাঁকে জীবনের অর্থ নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে রাম কাপুর আরও ইঙ্গিত দেন যে, তাঁর জীবনে এমন কিছু মানসিক সংকট ও গোপন অধ্যায় রয়েছে যা তিনি নিজের স্ত্রী গৌতমী কাপুরের কাছেও কখনো প্রকাশ করেননি, কারণ তা প্রকাশ পেলে তাঁর পরিবারের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারত। পাশাপাশি, একই পর্বে অপর জনপ্রিয় অভিনেতা হর্ষদ চোপড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত নিজের মায়ের মৃত্যুর স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের যন্ত্রণা লাঘব এবং শেষ সময়ে স্বজনদের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের এসব বক্তব্য সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।