ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনার আমতলা নদীতে অবৈধ বাঁশের বেড়া সরাতে হাইকোর্টের ৭ দিনের কঠোর নির্দেশ

banglaprime24
July 27, 2026 9:41 pm
Link Copied!

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের আমতলা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নদীর ভেতরে অবৈধভাবে দেওয়া বাঁশের বেড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন।

আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নদীর ভেতরের সমস্ত অবৈধ স্থাপনা বা বেড়া গুঁড়িয়ে দিতে। একই সঙ্গে, এই নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স বা প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ‘এক লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে এই নদী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমতলা নদীটি মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই প্রভাবশালী চক্রটি নদীর ভেতরে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া ও নেটপাটা স্থাপন করে। এর ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়, তেমনি দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহারও বন্ধ হয়ে যায়। মূলত একটি প্রবহমান নদীকে কৃত্রিম উপায়ে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে এই ইজারা দেওয়া হয়েছিল, যা দেশের প্রচলিত পরিবেশ আইন ও নদী রক্ষা নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সংবাদ প্রকাশের পর মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী আদালতের দ্বারস্থ হন। সোমবার আদালতে রিট আবেদনটির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যাকে আইনি সহায়তায় সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।

শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে জানান, দেশের উচ্চ আদালত নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং নদী সুরক্ষায় কঠোর রায় ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার কারো নেই। স্থানীয় প্রশাসন নদী ইজারা দিলেও ইজারাদারদের নদীর বুকে বাঁশ বা অন্য কোনো স্থায়ী বেড়া দিয়ে প্রবাহ আটকানোর অধিকার দেয়নি। এই আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত রুল জারি করেছেন।

আদালত কর্তৃক জারীকৃত রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, নদী দখল ও বাঁশের বেড়া স্থাপনের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না? এছাড়া, নদীর ভেতরের সমস্ত বাঁশ ও অবকাঠামো অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিবাদীদের তালিকায় পরিবেশ সচিব, ভূমি সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং খুলনার জেলা প্রশাসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, আদালতের নির্দেশনার আগেই গত সপ্তাহে সংবাদ প্রকাশের প্রভাবে স্থানীয় প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে। গত শনিবার বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমতলা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে নদী থেকে প্রায় ১৫ হাজার মিটার নেটপাটা এবং ক্ষতিকর অবৈধ চাইনা দুয়ারি জাল অপসারণ করা হয়। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, কেবল জাল বা আংশিক নেট সরালেই নদীর মুক্তি মেলে না; বরং নদীর বুকে তৈরি করা স্থায়ী বাঁশের বেড়া এবং বাঁধ পুরোপুরি অপসারণ না করলে প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বর্তমান এই আইনি পদক্ষেপে আমতলা নদীর প্রাণ ফিরে আসবে এবং নদ-নদী রক্ষায় অন্যান্য অবৈধ দখলদারদের জন্যও এটি একটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।