ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ফার্স্ট’ সংস্কৃতির উত্থান: অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ থেকে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের নতুন কৌশল

banglaprime24
July 23, 2026 11:46 am
Link Copied!

বিশ্বজুড়ে গত এক দশকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুদূরপ্রসারী ও লক্ষণীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মতাদর্শ, অর্থনৈতিক কাঠামো কিংবা রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিন্নতা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে চীন, ভারত, ইতালি কিংবা পোল্যান্ড—সব দেশেই আজ একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, ‘চায়না ফার্স্ট’, ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ বা এই জাতীয় স্লোগানগুলো এখন কেবল কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। প্রথম দৃষ্টিতে একে গত তিন দশকের উন্মুক্ত বাজার ও বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে সাধারণ অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মনে হতে পারে। তবে এই স্লোগানগুলোর পেছনের অর্থনীতি সম্পূর্ণ নতুন নয়। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, আমদানি হ্রাস করা কিংবা ভর্তুকির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো—এসব পুরোনো অর্থনৈতিক ধারণা। নতুন দিকটি হলো এই নীতিগুলোকে উপস্থাপনের রাজনৈতিক ও শৈলীগত রূপ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সূচনা হয়েছিল মূলত মধ্য-পশ্চিমের শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান হারানোর বেদনা এবং দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বায়নের ফলে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে। শুল্ক আরোপ ও ভর্তুকির মাধ্যমে কারখানাগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চললেও, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও অটোমেশনভিত্তিক এসব শিল্প আগের মতো শ্রমনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রকল্প নয়, বরং বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতার এক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস। অন্যদিকে, চীনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী আবাসন সংকট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থবিরতা সামাল দিতে বেইজিং সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌরপ্রযুক্তি ও উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন খাতে বিশাল বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো যখন নিজেদের বাজার সুরক্ষায় কঠোর হচ্ছে, তখন চীনের রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও কাঠামোগত বাধার মুখে পড়েছে।

ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগেও দেখা মিলছে পুরনো আমদানিবিকল্প শিল্পায়ন কৌশলের। উচ্চ শুল্ক এবং দেশীয় উপাদান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর এই প্রচেষ্টা উন্নয়নশীল বিশ্বে নতুন নয়। তবে তিনটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও নীতি আলাদা হওয়া সত্ত্বেও তাদের মূল বিশ্বাসে একটি অভিন্ন জায়গায় মিল রয়েছে—আর তা হলো জাতীয় শক্তি বাড়াতে হলে উৎপাদনের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে এবং অর্থনীতিতে সরকারের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করতে হবে। এই পুরোনো অর্থনৈতিক ধারণাগুলো এখন আর কেবল নীতিমালায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। পোল্যান্ড, ইতালি কিংবা যুক্তরাজ্যের মতো ভিন্ন ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রেও এই ‘ফার্স্ট’ ভাষার জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো এটি জটিল বৈশ্বিক সমস্যাগুলোকে একটি অতি সরল ও আবেগঘন বার্তায় রূপান্তর করে—যেখানে ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয় যে রাষ্ট্র এখন তাদের স্বার্থকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেবে।

কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মতো বৈশ্বিক ঘটনাবলী সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতগুলোকে বাজারভিত্তিক বিষয় থেকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত করেছে। ফলে রাষ্ট্রগুলোর অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারিত হয়েছে; এখন কেবল অর্থনৈতিক দক্ষতা নয়, সংকটকালে টিকে থাকার নিরাপত্তা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই নতুন সতর্কতা যখন রাজনীতির সাথে মিশে যায়, তখন তা ভিন্ন রূপ নেয়। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভূমিকা যত প্রসারিত হয়, বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জাল তত পোক্ত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীকরণ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার চেয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হয়ে ওঠে, যা বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।