আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দেশের দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি—মো. সাহাবুদ্দিন এবং মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি নালিশ জমা দেওয়া হয়েছে। পৃথক দুটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন—বাংলাদেশ আজাদি পার্টি এবং রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম—এই আবেদন দুটি জমা দেয়। এসব অভিযোগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধীদের দমনে দুই রাষ্ট্রপ্রধার মৌন সম্মতি, পরোক্ষ সমর্থন ও হুকুমদাতার ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে ‘বাংলাদেশ আজাদি পার্টি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসনামলে ঘটে যাওয়া পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সমাবেশ দমন, এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত ধারাবাহিক গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তদানীন্তন রাষ্ট্রপ্রধানরা সাংবিধানিক দায়িত্বে থেকেও নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। সংগঠনটির মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে অব্যাহত সমর্থন দেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সময় নীরব ভূমিকা পালন করা কার্যত অপরাধে অংশীদারিত্বের শামিল।
অপরদিকে, ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’-এর দায়ের করা দ্বিতীয় আবেদনে মূলত ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ, অত্যাচার, নিপীড়ন এবং গুমের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কী ভূমিকা ছিল, তার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, ওই রক্তক্ষয়ী সময়ে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নের নির্দেশদাতা বা মদদদাতা হিসেবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা খতিয়ে দেখা ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরী।
অভিযোগপত্র দুটি গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আবেদন দুটি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য রাখা হয়েছে এবং আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারী সাবেক দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এমন লিখিত অভিযোগ দায়েরের ঘটনা সাম্প্রতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা।

