বাংলাদেশ হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে আবারও ফিরেছেন অভিজ্ঞ জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে দলের প্রথম অনুশীলনে যোগ দিয়েই তিনি দেশের হকির সবচেয়ে চেনা মুখ ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমিকে ‘বাংলাদেশের হকির প্রিন্স’ এবং ‘মেসি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী জিমির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে এই জার্মান কোচ জানান, জিমির মধ্যে এমন বিশেষ কিছু মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে, যা এককভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। জিমির সঙ্গে নিজের পুরনো স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি ভারতের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ধনরাজ পিল্লারের সঙ্গেও জিমির তুলনা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো জিমিকে বয়সজনিত কারণে একবার দল থেকে বাদ দেওয়া হলেও, নতুন কোচের অধীনে তিনি ফের কামব্যাক করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যে ১৯৪টি ম্যাচ খেলে ফেলা এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন ডাবল সেঞ্চুরি অর্থাৎ ২০০ ম্যাচ পূর্ণ করার হাতছানি রয়েছে। কোচ গেরহার্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জিমি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জার্মান কোচের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তাঁর কৌশল ও দক্ষতা সম্পর্কে দলের সবাই অবগত। ৭৯ বছর বয়সী পিটার গেরহার্ডের বয়স নিয়ে তৈরি হওয়া সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন জিম ও সাইক্লিং করে নিজেকে ফিট রাখেন এবং কোচিংয়ে তার কোনো সমস্যা হয় না।
আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভালো ফল অর্জনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন পিটার গেরহার্ড। মাত্র ছয় সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতি সময়কে তিনি ‘মিশন ইম্পসিবল’ আখ্যা দিলেও এটিকে সফল করতে চান। ইউরোপীয় ঘরানার গতি ও ছন্দ বাংলাদেশ দলে ফিরিয়ে আনতে চান তিনি, যা এশিয়ার অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সময় বাড়তি সুবিধা দেবে। ফেডারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ হকি দলকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য জার্মানিতে পাঠানো হবে, যেখানে স্থানীয় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
খেলোয়াড়দের শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও শক্তিশালী করে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ‘ট্রেইন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক একটি বিশেষ মানসিক দক্ষতা ও মনোযোগ বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সেমিনারে ৩৮ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুলসহ দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা এই কর্মশালা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, মাঠের চাপ সামলানো এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে এই ধরনের মানসিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

